রাজবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা করে মাদক ব্যবসায়ী ছিনতাই, আটক ৬

রাজবাড়ী প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫, ০৭:৫২ পিএম

রাজবাড়ীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর হামলা করে মাদক ফরিদ শেখকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলায় আহত হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াহিদুল হাসান। 

হামলায় জড়িত রাজবাড়ী সদর উপজেলার কাজীবাঁধা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু শেখ (মেম্বার) (৪৭), মো. মিন্টু শেখ (৫৫), মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু শেখ (মেম্বার) স্ত্রী মোসা. সেফালী বেগম (৪৩), মো. ইদ্রিস শেখের স্ত্রী মোসা. নাসিমা বেগম (৩৫), রফিক শেখের স্ত্রী মোসা. শিমু বেগম (২০), মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী সোহাগি বেগম (২৫)।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাঁধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, জেলা গোয়েন্দা শাখার টিম গোপন সংবাদ পেয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাঁধা গ্রামের ফরিদের বসত বাড়ীর সামনে রাস্তার উপর মাদক ক্রয়-বিক্রয় করছে। এ খবর পেয়ে সেখান থেকে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করা কালিন সময়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজী বাঁধা (শেখ বাড়ী) গ্রামের আয়েশা মঞ্জিলে মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মাদক বিক্রেতা মো. ফরিদ শেখ (৪১) কে মাদকদ্রব্য ৩১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ বোতল ফেন্সিডিল সহ আটক করে। ধৃত মো. ফরিদ শেখকে আটক করাকালীন তার পরিবারের লোকজন গোয়েন্দা শাখা টিমের সদস্যের দিকে  অতর্কিতে তেড়ে আসে। এসময়  গোয়েন্দা শাখার কিছু সদস্য শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

তিনি বলেন, পরে পুলিশ সুপার মোছা. শামীমা পারভীনের নির্দেশে রাজবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশকে আক্রমণকারীদের মধ্যে মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু শেখ (মেম্বার), মো. মিন্টু শেখ, মোসা. সেফালী বেগম, মোসা. নাসিমা বেগম, মোসা. শিমু বেগম, সোহাগী বেগমকে আটক করা হয়।  ঘটনাস্থল থেকে মাদক উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের সরকারি কাজে বাঁধা, আক্রমণ সংক্রান্তে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পলাতক ফরিদ ও তার স্ত্রীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ফরিদ শেখ একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় ৯টি মাদক মামলা রয়েছে। তার বাড়ি থেকে ৩১০ পিস ইয়াবা ও চার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ মাদক ব্যবসায়ী ইতোপূর্বেও একাধিকবার প্রশাসনের উপর একাধিকবার হামলা চালায়। এ ব্যাপারে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পুলিশের ওপর হামলার পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হবে। 

আরএস