ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সড়কে গাছ ফেলে চালক ও যাত্রীদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে অটোরিকশা, মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ডাকাতরা।
বুধবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর উত্তর পাড়া পাকা রাস্তার ওপর এ ঘটনা ঘটেছে।
ডাকাতদের মারধরে অটোরিকশা চালক ও তিন যাত্রী আহত হয়েছেন।
জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারের জন্য বুধবার সন্ধ্যায় অটোরিকশার মালিক ও চালক আলমগীর হোসেন বিজয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আলমগীর হোসেন জেলার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আমোদাবাদ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শেখ আব্দুল মান্নানের ছেলে।
আলমগীর হোসেন বলেন, "তূর্ণা নিশিতা ট্রেনে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের নিয়ে আখাউড়া থেকে বিজয়নগরের আউলিয়া বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। দুলালপুর উত্তর পাড়া ব্রিজের দক্ষিণ পার্শ্বে ডাউনে পাকা রাস্তার ওপর গাছ দেখে দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত গাড়ি থামাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাস্তার দুই পাশ থেকে ৮/১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ডাকাতদের হাতে ধারালো ছুড়ি, দা, বাঁশ ও কাঠের লাঠি ছিল। আমাদের প্রচন্ড মারধর করে, হাত-পা বেঁধে ফেলে। সবার মানিব্যাগ ও পকেটে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। মারধরে আহত এক বয়স্ক যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে ডাকাতরা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। কয়েক দফা বেধড়ক পিটিয়ে অটোরিকশা নিয়ে দ্রুত বেগে চলে যায় ডাকাতরা।"
তিনি আরও বলেন, "ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব ও বেকার হয়ে গেলাম। তিনজন যাত্রী এবং আমার কাছ থেকে মোট তিনটি মোবাইল এবং নগদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ডাকাতরা। ডাকাতির সময় আলামিন নামে এক ডাকাতের নাম ধরে ডাকাডাকি করে তারা।"
আহত তিন যাত্রী জানান, "কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাকাতরা চালকসহ তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে মোবাইল, টাকা-পয়সা সব কিছু হাতিয়ে নেয়। পরে অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যায় ডাকাতরা।"
এ বিষয়ে জানতে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রওশন আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
ইএইচ