ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় মামলা

আল-আমিন, নীলফামারী প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ০২:২০ পিএম

নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ঘোনপাড়া এলাকায় শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন আনছার আলীর ছেলে মো. মঞ্জেল ইসলাম, ছলে মামুদের ছেলে আনাকুল এবং ছলে মাহমুদ নামে একই এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে রওশন আলী।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানায় নিহতের আপন চাচা মো. রফিকুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার ১৯ দিন পরও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে গ্রামবাসী এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

তারা অভিযোগ করেছেন, মামলা তুলে না নিলে আসামিরা একে একে তাদের পুরো পরিবারকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত (১৬ মার্চ) রোববার সকালে রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহজালাল আনছার আলীর বাড়ির পাশ দিয়ে হাঁসের খামারে যাচ্ছিলেন। পথে মঞ্জেল ইসলাম, ছলে মামুদ ও আনাকুল তাকে পথরোধ করে এবং তাকে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা গলায় সাইকেলের চেইন পেচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। তার চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়।

পরদিন সকালে রওশন আলী নিজের হাঁস খামারে হাঁসদের খাবার দিচ্ছিলেন, তখন আনাকুল ও মঞ্জেল এসে তাকে মারধর করে এবং পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রওশনের হাঁসের খামার আনছার আলীর বাড়ির পিছনে এবং তাদের আবাদি জমি একে অপরের পাশেই অবস্থিত। তাদের মধ্যে জমি নিয়ে পূর্বে ঝগড়া হয়েছিল, যার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই পূর্বে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের পরিবারকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এখন তারা আমাদের সকল সদস্যকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি চাই, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক, যাতে আমরা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারি।"

এ বিষয়ে মজিবর রহমানের ছেলে মো. গোলাম রব্বানী বলেন, "ঘটনার পর তারা আমাদের হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে তারা এমন কোন ঘটনা ঘটাতে না পারে।"

এ বিষয়ে মঞ্জেল, আনাকুল এবং ছলে মামুদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর সাঈদ জানান, "রওশন আলীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ইএইচ