বাহারি ফুলের সৌরভে মুখরিত বেরোবি ক্যাম্পাস

আবু সাঈদ, বেরোবি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম

ঋতুর পরিক্রমায় এসেছে বসন্তকাল। মৃদু ঠান্ডা, শীতের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছে। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাহারি রঙের নতুন ফুলে সেজেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাস। চারদিকে ফুলের সমারোহ। মৃদু বাতাসে বাহারি ফুলের মিষ্টি গন্ধ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের মন মাতিয়ে তুলছে। ফুলের সুবাসে পুরো ক্যাম্পাস যেন এক অন্যরকম পরিবেশে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও দর্শনার্থীরা এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে নানান রঙের ফুলের বাগান। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনের উভয় পাশে, কৃষ্ণচূড়া সড়কে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ গেট সংলগ্ন দেবদারু সড়কে, আবাসিক হলের পাশে—ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি স্থানে ফুলের বাগান করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ গেটের সামনের অংশ। সেখানে হলুদ, লাল, গোলাপি আর সবুজের অপূর্ব সমন্বয় প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করছে।

এসব বাগানে ফুটেছে গাঁদা, জাম্বু গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, পিটুনিয়া, ভারবিনা, দেশি সিলভিয়া, হাইব্রিড গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, ডায়ানথাস, ডালিয়া, গোলাপ, মোরগঝুঁটি, সূর্যমুখীসহ নানা প্রজাতির ফুল।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছেন অনেকে। ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন তাঁরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে বেরোবির সবুজ ক্যাম্পাস। বিকেল হলে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বেড়ে যায়। নতুন দম্পতিরাও ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের স্মৃতি ফ্রেমবন্দি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজিজ বলেন, "প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। ক্যাম্পাসের সুন্দর সুন্দর ফুল দেখে আমাদের মন ভালো হয়ে যায়। ফুলবাগান আমাদের পরিবেশে সৌন্দর্য এবং শান্তির অনুভূতি এনে দেয়। এটি শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেও সহায়ক। আমরা চাই, শুধু ফুলগাছ নয়, প্রশাসন যেন আমাদের একাডেমিক সংকটও সমাধান করে এবং ক্যাম্পাসের আরও জায়গায় ফুলের বাগান করা হয়।"

বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, "এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার আবেগের জায়গা, যেখানে জুলাই বিপ্লবে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছেন। ফুল সবারই প্রিয়। ফুল মানুষের মনকে সতেজ করে, প্রকৃতিতে যোগ করে নতুন মাত্রা। আজ ক্যাম্পাসে ঘুরে নানান রঙের ফুল দেখে মনে হচ্ছে প্রকৃত বসন্ত এসে গেছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরঙ্গন পরিচালনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, "মাননীয় উপাচার্য স্যারের পরামর্শক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব, দৃষ্টিনন্দন ও পড়ালেখার উপযোগী করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফুলবাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা ২০ প্রজাতির ফুলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলাম, এর মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও লাগানো হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, "আমাদের ক্যাম্পাসের বাগান পরিচর্যার জন্য কোনো মালি নেই। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আলাদা বাজেটও নেই। তবে উপাচার্য মহোদয়ের বিশেষ উদ্যোগে এটি করা হয়েছে। অল্প কিছু জায়গায় ছোট ছোট চারা লাগানো হয়েছিল, সেখানেই এত সুন্দর ফুল ফুটেছে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে।"

ইএইচ