গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের মুখপাত্র নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম

গাজার উত্তরাঞ্চলের ইসরায়েলি বিমান হামলায় আবদেল-লতিফ আল-কানোয়া নামে হামাসের একজন মুখপাত্র নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলের সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ ছিটমহলটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। খবর আলজাজিরার।

আল-আকসা টিভি ও বার্তা সংস্থা শেহাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়া শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে আশ্রয়শিবিরে বোমা হামলা চালানো হলে নিজ তাঁবুতে মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানোয়া নিহত হন।

গাজা থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা হিন্দ খৌদরি জানান, হামলায় শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

খৌদরি বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উপত্যকাজুড়ে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে গাজা শহরের আস-সাফতাউই এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

গত ১৮ মার্চ গাজায় প্রচণ্ড বোমা হামলা ও স্থল অভিযান পুনরায় শুরু করে ইসরায়েল। এতে করে দুই মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির শেষ হয়ে যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ছিটমহলটিতে বন্দি থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য হামাসকে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল ইতোমধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করেছে।

গত সপ্তাহে হামাসের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গত রোববার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের রাজনৈতিক অফিসের আর্থিক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান ইসমাইল বারহুমসহ পাঁচজন নিহত হন।

একই দিনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে বোমাবর্ষণ করে। হামাসের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের সদস্য সালাহ আল-বারদাওয়েল ও তার স্ত্রী সেই হামলায় নিহত হন।

উভয় নেতাই হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য ছিলেন। ২০ সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এ দপ্তরের ১১ জন ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার সময় হামাস প্রায় ২৫০ জন জিম্মি করেছিল, তাদের মধ্যে ৫৯ জনকে এখনও বন্দি রেখেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হামাসের ওই আক্রমণে ইসরায়েলের কমপক্ষে এক হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছে। এরপর ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিতে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ হাজার ১৮৩ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৮২৮ জনকে আহত করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০ দিন আগে ইসরায়েল পুনরায় হামলা শুরু করার পর থেকে প্রায় ৮৩০ জন নিহত হয়েছে, হতাহতের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ গত মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক লাখ ৪২ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করেছে। গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের ধীরগতির এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা তিন পর্যায়ের চুক্তির প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপে সম্প্রসারণে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হয় গত ১ মার্চ।

হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে বিপন্ন করার অভিযোগ করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাস মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজায় পুনরায় হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছেন, হামাস বাকি জিম্মিদের মুক্তি না দিলে ইসরায়েল গাজার কিছু অঞ্চল দখল করবে।

বিআরইউ