প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ, থাকছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৫, ০২:১৭ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রস্তুত হয়েছে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জের  শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। ঐতিহাসিক এ ঈদগাহ মাঠে ১৯৮তম ঈদের জামাতকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের জন্য স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে।

শনিবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন। এ সময় পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিট প্রধানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহের জামাত শুরু হবে সকাল ১০ টায় শটগানের গুলির শব্দে। এটি এই ময়দানের বহুকালের ঐতিহ্য। ঈদ জামাতের বিশালতার কারণে পেছনের মুসল্লিদের সালাত শুরু সংকেত দেওয়ার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ার প্রচলন হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের সর্বশেষ সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, এবারও ঈদুল ফিতর জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবারের ঈদের জামাতে মাস্ক, টুপি, মোবাইল ও জায়নামাজ ছাড়া আর কিছু সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না মুসল্লিরা।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আমরা সব সময় বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি ও করছি। তাই আমরা কিছু বাড়তি আয়োজন করেছি। এর মধ্যে ময়দানকে লক্ষ্য করে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষ যখন ঈদগাহ ময়দানে আসবেন পুলিশের চারটি স্থাপনা পেরিয়ে আসতে হবে। মাঠে ড্রোন ক্যামেরা থাকবে। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। এছাড়াও পুরো মাঠ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।’

জনশ্রুতি আছে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ ঈদের জামাতের মোনাজাতে ভবিষ্যতে মাঠে মুসল্লিদের প্রাচুর্য প্রকাশে ‘সোয়া লাখ’ কথাটি ব্যবহার করেন। অন্য একটি মতে, সেই দিনের সেই জামাতে ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ লোক জমায়েত হন। এর থেকে নামকরণ হয় শোলাকিয়া।

বিআরইউ