জুলাই আন্দোলনে আহত

অর্থাভাবে হয়নি সুচিকিৎসা, মাথায় গুলি নিয়েই চলে গেলেন হৃদয়

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (১৭) মারা গেছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত হৃদয় উপজেলার পশ্চিম যৌতা গ্রামের রিকশাচালক আনসার হাওলাদারের ছেলে।

হৃদয়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, হৃদয় ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ সময় তার মাথায় তিনটি গুলি লাগে। ওই সময় তিনি লুকিয়ে চিকিৎসা নেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। চিকিৎসকরা তার মাথা থেকে ২টি গুলি বের করতে পারলেও আশঙ্কাজনক হওয়ায় একটি গুলি বের করতে পারেননি। এতে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি হৃদয়। মাঝে মাঝে প্রচণ্ড জ্বর উঠত তার শরীরে। এক পর্যায়ে গত বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়েন হৃদয়। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, অর্থাভাবে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। একমাত্র সম্বল রিকশা ও একটা গরু বিক্রির টাকা দিয়ে যতটুকু করার চেষ্টা করেছি। মাথার তিনটি গুলির দুটি বের করেছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। আরেকটি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বিদেশ চিকিৎসার করা হলে আমার ছেলেটা বেঁচে থাকতো। টাকা নেই তাই ছেলেটা মারা গেছে। আমার ছেলেটার জীবন গেছে। নতুন সরকার আসছে, কেউ তার খোঁজ নিল না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নিহত হৃদয়ের বড় ভাই মো. সোহাগ ইসলাম আনিস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটা গুলি নিয়ে অসুস্থ ছিল হৃদয়। এতে মাথায় প্রচুর ব্যথা করত। জ্বর উঠত। কেউ আমার ভাইয়ের খোঁজ নেয়নি। উন্নত চিকিৎসার অভাবেই আমার ভাই মারা গেছে।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আ. রউফ বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে হৃদয়কে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। পরিবার যথাসময়ে বরিশাল নিয়ে যেতে পারেনি। পরে এখানেই বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।  

আরএস