বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)।
বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন নতুন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আল মাশনুন নামের এক শিক্ষার্থী।
সূত্র জানায়, সংগঠনটির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল বা মূল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না। দলটি কোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে জড়িত হবে না। কোনো ‘মাদার সংগঠনে’র অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন বা কোনো রাজনৈতিক দলের কথামতো তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে না।
বলা হচ্ছে সংগঠনটির আয়ের উৎস হবে অভ্যন্তরীণ নেতাকর্মীদের মাসিক চাঁদা। প্রয়োজন মাফিক শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকেও অনুদান সংগ্রহ করা হতে পারে।
তাছাড়া মূলধারার রাজনৈতিক পরিসরে নারীদের যে অনুপস্থিতি রয়েছে সেটিকে চিহ্নিত করে নারীর রাজনৈতিক মানদণ্ড বিনির্মাণ করা, রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করে তোলার মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগের সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করে যাবে বলেও প্রত্যাশা রাখেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নতুন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হচ্ছেন আবু বাকের মজুমদার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ছিলেন।
আবু বাকের মজুমদার বলেন, আমাদের ছাত্র সংগঠন কোনো লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন হবে না। এটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা চলছে, তবে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের নেতৃত্ব নির্বাচন হবে ‘বটম টু টপ’ প্রক্রিয়ায়, গণতান্ত্রিক উপায়ে। সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রম অভ্যন্তরীণ চাঁদার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
সূত্রে জানা যায়, আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া সংগঠনটির ঢাবির আহ্বায়ক পদের আলোচনায় রয়েছেন ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের।
তিনি বলেন, এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৮ বছর। ২৮ বছরের বেশি কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটগুলোর সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত অনুমতি থাকবে। অর্থাৎ এটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সংগঠন।
বিআরইউ