আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫, ১১:২৬ এএম
আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫, ১১:২৬ এএম
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এ আওয়ামী লীগের আমলে সকল ধরনের সুবিধা নেওয়া দোসর গোষ্ঠী এখনো সক্রিয়ভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে। বরং এখন তাঁরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে বিএনপির রাজনীতিকারক হিসেবে। এযেনো নতুন বোতলে পুরোনো মদ।
বিজেআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম মনিরুজ্জামান এর নামে গত একদশক যাবৎ অভিযোগের অন্ত নেই। একসময় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় অতিষ্ঠ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অগণিত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে, আর এখন প্রধান কার্যালয়ে থেকে সকল অনিয়ম করে বেরাচ্ছেন বিএনপির ট্যাগলাইনে। কিন্তু প্রশাসন যেন নীরব দৃষ্টি পালন করছে। ধরাছোঁয়ার বাহিরেই আছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সক্রিয় এই সদস্য।
প্রায় একদশক ধরে কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতিতে আধিপত্য করা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নেত্রকোণা ৪ আসনের সাবেক এমপি সাজ্জাদুল হাসানের একান্ত স্নেহভাজন ড. মনিরুজ্জামান শেখ হাসিনার আমলে সহকর্মীদের মারধর থেকে শুরু করে নারী কেলেঙ্কারি সকল কিছুতেই জড়িত ছিল।
মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (গ্রেড-৩) থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নকর্মী (গ্রেড-২০) লেভেলের দশ জনের বেশি কর্মকর্তা/কর্মচারী ড. মনিরুজ্জামান এর নির্যাতনের শিকার হয়ে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও তাঁর ক্ষমতার কাছে সেই অভিযোগগুলো কোন আলোর মুখই দেখেনি।
অভিযোগের চাপে তৎকালীন বিজেআরআই মহাপরিচালক (ডিজি) ড. আবদুল আউয়াল পরিস্থিতি সামাল দিতে ড. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক সময়ের জন্য প্রধান কার্যালয় হতে ফরিদপুর কার্যালয়ে বদলি করলেও জুলাই বিপ্লবের সময় বিজেআরআই হতে ছাত্রদের পক্ষে কেউ যাতে অবস্থান না নিতে পারে তাই তাঁর সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে কাজে লাগাতে আবারও ড. মনিরুজ্জামানকে বদলি করে আনা হয় ঢাকায়।
গত ৪ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে খামারবাড়িতে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে সারা দেশ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ভুক্ত কৃষিবিদ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাস্তায় নেমে হাসিনার সাফাই গান। সেইদিনের সকল কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বিজেআরআই হতে মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন ড. মনিরুজ্জামান। এমনকি সেইদিন ছাত্র-জনতার বিপক্ষের মানববন্ধনে বিজেআরআই এর মূল ব্যানার “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখুন” নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নেত্রকোনা-৪ আসনের সাবেক এমপি সাজ্জাদুল হাসানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ড. মনিরুজ্জামানকে।
বিজেআরআই এ কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারী জানান, ড. মনিরুজ্জামান শুধু সিনিয়র এবং জুনিয়র সহকর্মীদেরই নয় এমনকি আগের মহাপরিচালক থেকে বর্তমান মহাপরিচালক সকলকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান। কেউ প্রতিবাদ করতে উদ্যত হলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেন, এমনকি সহকর্মীদের মারধরও করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান আওয়ামী লীগের আমলে সকল ধরনের সুবিধা নেওয়া এই কর্মকর্তা এখন বিএনপির বোল বলা শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলে এই কর্মকর্তা পিএসও হয়েও বরাদ্দ পান প্রধান কার্যালয়ের বাংলো নং-০৩ এর একটি বাসা, যা বিজেআরআই বাসা বরাদ্দ নীতিমালা, ২০২২ অনুসারে পরিচালক/সিএসওগণের জন্য বরাদ্দ। বর্তমান মহাপরিচালক এবং একজন পরিচালক সেই একই বাংলোতে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের এই দোসর কর্মকর্তা পটপরিবর্তনের পর এখনো সেই বাংলোতে অবস্থান করছেন। শুধু তাই নয়, বর্তমান মহাপরিচালককে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধমকি দিয়ে নিজের অনুকূলে সুবিধা বাগিয়ে নেয়ার তালে রয়েছেন এই কর্মকর্তা।
বিজেআরআই এ কর্মরত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একই অফিসে কর্মরত অফিস সহায়ক রত্না বেগমের সাথে ড. মনিরুজ্জামানকে অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার প্রমাণ পেয়ে বেশ কজন কর্মচারী বিজেআরআই কর্তৃপক্ষকে বিগত সময়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এমনকি তারা উল্লেখ করেন যে অফিস চলাকালীন অবস্থায় রত্না বেগমকে অশালীন অবস্থায় ড. মনিরুজ্জামানের কক্ষে দেখতে পান। কিন্তু লিখিত অভিযোগের পরও সাজ্জাদুল হাসানের ক্ষমতাবলে বিজেআরআই কর্তৃপক্ষ সেসময় নীরব অবস্থান নেয়। একই আবাসিক এলাকায় থাকার দরুন বিজেআরআই কর্মচারীদের অনেকেই ড. মনিরুজ্জামানকে রত্না বেগমের বাসা (পলাশ ভবনের ১২৯/৪ নং বাসা) হতে বেশ কয়েক রাতে বের হতে দেখতে পান। তা নিয়েও বর্তমান ডিজির কাছে কর্মচারীরা অভিযোগ দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান ডিজি ড. নার্গীস আক্তার এব্যপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উদ্দ্যত হলে ড. মনিরুজ্জামান টের পেয়ে উলটো ড. নার্গীসকে শাসিয়ে বিজেআরআই এর বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সামনেই ভয়ভীতি দেখান, হুমকি দেন এমনকি বিভিন্নভাবে ডিজিকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন।
এব্যাপারে ড. নার্গীস আক্তারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
বিআরইউ