আশিকুর রহমান হৃদয়, শরীয়তপুর
মার্চ ১১, ২০২৫, ০২:৩৬ পিএম
আশিকুর রহমান হৃদয়, শরীয়তপুর
মার্চ ১১, ২০২৫, ০২:৩৬ পিএম
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানোকাঠী এলাকায় কৃষকের ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করে মাছের ঘের তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। জমি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভুক্তভোগী কৃষকদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রভাবশালী একটি মহল রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এ দখলের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ডামুড্যা উপজেলার ধানোকাঠী ইউনিয়নের বেতমোড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ধানসহ বিভিন্ন রবি শস্য উৎপাদন করে আসছেন। সম্প্রতি জাকির খান, ফারুক খান, বালু করিমসহ তাদের সহযোগীরা প্রায় ১০ একর ফসলি জমি দখল করে সেখানে মাছের ঘের তৈরি করতে শুরু করেন। এক্সাভেটর দিয়ে জমির চারপাশ খনন শুরু করলে কৃষকরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা কৃষকদের মারধর ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও একই কৌশলে উপজেলার আরও পাঁচটি স্থানে কৃষি জমি দখল করে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। ধানুকাঠী ইউনিয়নের বালাকান্দি, মোল্লাকান্দি, ধানুকাঠী বাজার, নতুন বাজার ও চর ধানুকাঠীসহ বিভিন্ন এলাকায় এই দখল প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ভুক্তভোগী কৃষক আবুল কাশেম বলেন, "ঘের প্রকল্পের মাঝখানে আমার এক কানি জমি রয়েছে। কষ্ট করে ধান লাগিয়েছি, কিন্তু মাছের ঘেরের জন্য আমার জমি দখল করে মাটি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে। আমি ফসলি জমি রাখতে চাই, মাছের ঘের করতে চাই না। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।"
একই অভিযোগ তুলে রফিক বেপারী বলেন, "আমাদের জমি দখল করে জোর করে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। আমরা সেনাবাহিনী, পুলিশ, ওসি, ডিসির কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাদের সহায়তা করছে না। প্রশাসনকে হাত করে এই দখল চলছে। আমরা আমাদের কৃষি জমি ফেরত চাই।"
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জাকির খান ও বালু করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, "আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কাজ করছি। ওসি ও এসিল্যান্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন।"
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফসলি জমি দখল ও কৃষকদের হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
ভুক্তভোগী কৃষকরা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের আশায় রয়েছেন এবং দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
ইএইচ