Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫,

চাঁদার টাকা না পেয়ে তরমুজ চাষিকে পিটিয়ে হত্যা

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

এপ্রিল ৪, ২০২৫, ১০:৫২ পিএম


চাঁদার টাকা না পেয়ে তরমুজ চাষিকে পিটিয়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় কুদ্দুস হাওলাদার (৪৫) নামে এক তরমুজ চাষিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুদ্দুস হাওলাদার তার বাড়ির পাশে তরমুজ ক্ষেতে কাজ করছিলেন।

এ সময় উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের পূর্ব চরাদী এলাকার আনোয়ার, সানি, ফয়সাল, হিরন, মিরাজ, সরোয়ারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি বখাটে গ্রুপ পূর্বনির্ধারিত দুই লাখ টাকা চাঁদা নিতে তরমুজ ক্ষেতে যায়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা মাঠ থেকে তরমুজ লুট করে। কুদ্দুস বাধা দিলে তাকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বখাটেরা।

গুরুতর আহত অবস্থায় কুদ্দুস হাওলাদারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত কুদ্দুস হাওলাদার ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে।

নিহত কুদ্দুসের মামাতো ভাই, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মজিবুর রহমান বলেন, “কুদ্দুস বাড়ির পাশের জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। স্থানীয় বখাটেরা চাঁদার টাকা না পেয়ে তার জমি থেকে তরমুজ লুট করে। তিনি প্রতিবাদ জানালে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে আনোয়ার, মিরাজ, হাসনাইন, সরোয়ার, সানি, মতিউর রহমান ও ফয়সালসহ ১০-১৫ জন তাকে বেধড়ক মারধর করে।”

নিহত কুদ্দুসের মেয়ে সাদিয়া বলেন, “বখাটেরা দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। টাকা না দেওয়ায় তারা মাঠ থেকে তরমুজ লুট করে নেয়। আমার বাবা বাধা দিলে তারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এখন আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে কুদ্দুস হাওলাদারের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

বাকেরগঞ্জ থানাধীন চরামদ্দি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই এনামুল হক শহীদ জানান, “কৃষক কুদ্দুস হাওলাদার জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলেন। কিছুদিন ধরে পার্শ্ববর্তী চরাদি এলাকার কিছু লোক রাতের আঁধারে তার ক্ষেতের তরমুজ চুরি করছিল। পরে তারা দিনের বেলাতেও তরমুজ লুট করতে থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাষী কুদ্দুস তাদের বাধা দিলে বখাটেরা তাকে ক্ষেতের পাশে থাকা রেইনট্রি গাছের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৩টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিহত কুদ্দুসের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ইএইচ

Link copied!