Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫,

ঝিনাইদহে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে থেকে যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর

কে এম সালেহ, ঝিনাইদহ

কে এম সালেহ, ঝিনাইদহ

এপ্রিল ৪, ২০২৫, ১০:৫৮ পিএম


ঝিনাইদহে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে থেকে যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর

ঈদযাত্রায় ফিরতি টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগকারী যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন বাস কাউন্টার শ্রমিকরা।

এ ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার বিকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে।

মারধরের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ঢাকাগামী যাত্রী নুসরাত শাম্মী বলেন, "যাত্রীরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি। বিগত সরকারের আমলেও এমনটা ছিল, এখনো আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে একজন যাত্রীকে মারধর করা হয়েছে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?"

তালহা জুবায়ের নামের আরেক যাত্রী বলেন, "পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন এক যাত্রী। পরে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে পরিবহন শ্রমিকরা সেই যাত্রীকে লাঞ্ছিত করেন।"

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এক যাত্রী জরুরি সেবা হটলাইনে ফোন করে পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে যান। বিকেল ৫টার দিকে অভিযান শুরু হলে অন্যান্য বাস কাউন্টারের কর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে অভিযোগকারী যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার নির্ধারিত বাস ভাড়া ৬৫০ টাকা হলেও কাউন্টার শ্রমিকরা ১২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। এতে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক বলেন, "রমজান মাসে পরিবহন খাতে তেমন আয় ছিল না। তখন কেউ আমাদের খোঁজ রাখেনি। ঈদ উপলক্ষে ৫০-১০০ টাকা বেশি নিলে যাত্রীরা আপত্তি করেন না। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে আজ এক যাত্রী অভিযোগ করেছে।"

ঝিনাইদহ পরিবহন বাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, "একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। অভিযানের সময় আমাদের সমিতির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলে এমন হতো না। শ্রমিক ভাইয়েরা যাত্রীদের সেবা দিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।"

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস বলেন, "শ্রমিকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে ও যাত্রীকে মারধর করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ইএইচ

Link copied!