Amar Sangbad
ঢাকা রবিবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৫,

বরিশালে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগ

বরিশাল ব্যুরো:

বরিশাল ব্যুরো:

এপ্রিল ৫, ২০২৫, ০৫:১৯ পিএম


বরিশালে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢলে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ দুরপাল্লার পরিবহনের জেলার প্রতিটি কাউন্টারে উপচে পড়া ভিড় বেড়েই চলেছে। যা চোখে পড়ার মত।

গত দুইদিনে ভোর থেকেই শুরু হয় হাজারো যাত্রী বাসের টিকিটের জন্য নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এই সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ভাড়া নৈরাজ্যের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের কাছ থেকে পরিবহনগুলো যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নগরীর নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনালের টিকিট কাউন্টারগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসন।

অভিযানের মাধ্যমে একাধিক টিকিট কাউন্টারের মালিককে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দমাতে পারেননি সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৫ এপ্রিল) ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত বাস টার্মিনাল ও দুরপাল্লার জেলার বিভিন্ন কাউন্টারগুলোতে অপেক্ষমান যাত্রীদের অভিযোগে জানা গেছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফেরার জন্য পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এখন দুই থেকে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশ পরিবহন নামের একটি বেসরকারি বাস সার্ভিসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় ঘটনায় যাত্রীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের ইলিশ কাউন্টারে গেলে ক্যামেরা দেখে কাউন্টার ম্যানেজার দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। যাত্রীদের অভিযোগে জানা গেছে, বাস শ্রমিকরা বলছেন সিট নেই, দ্রুত গেলে বেশি ভাড়া দিলে সিট পাওয়া যাবে। এভাবে সাধারণ যাত্রীদের সাথে প্রতারনা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অসংখ্য ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগে জানা গেছে, সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসিতেও চলছে একই সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের বিআরটিসি ডিপোর হাফিজ ও কামাল নামের দুই চালকের নেতৃত্বে গঠিত একটি সিন্ডিকেট কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

সূত্রমতে, বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়া সাতশ’ টাকা হলেও ডিপোর বাহিরে রাখা বিআরটিসি বাসগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে নয়শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ধরনের সিন্ডিকেট চক্র ডিপোর ভিতরে মাত্র ২/৩টি সিট বরাদ্দ রেখে বাকি যাত্রীদের বাইরে পাঠিয়ে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়াও জেলার রহমতপুর থেকে গৌরনদী পর্যন্ত পথজুড়ে থাকা বিআরটিসি’র কাউন্টারগুলো নামেমাত্র সিট বরাদ্দ রেখে বাকিটা অতিরিক্তমূল্যে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ঈদের পর প্রতিদিন গড়ে ২০টি ট্রিপ চালাচ্ছে বিআরটিসি। অথচ প্রতিটি কাউন্টারে পুরো ট্রিপ মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয়টি সিট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এতে কাউন্টার মালিকরাও চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এ বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতি ও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ওই সিন্ডিকেট চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

অপরদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের বাস কাউন্টারগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসন।

ঈদকে ঘিরে যাত্রীদের কাছ থেকে পরিবহনগুলোর কাউন্টার মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা পাওয়ায় তিনটি টিকিট কাউন্টারের মালিককে নগদ অর্থ জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সমাপ্তি রায়।

অন্যদিকে শুক্রবার বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকামুখি যাত্রীদের ছিলো উপচেপড়া ভীড়। একই চিত্র শনিবার দুপুরেও বরিশাল নদী বন্দর র্টামিনালে গিয়ে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় ঢাকার উদ্দেস্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য যে সব লঞ্চ গুলো লঞ্চ র্টামিনালে বেধে রাখা হয়েছে সেগুলোতে দুপুর থেকে আসতে শুরু করেছে যাত্রীরা। তবে বিকেল ৪ টা বাজতেই ফিলাপ হয়ে যায় লঞ্চ গুলোর পুরো ডেক।

বরিশাল নদী বন্দর থেকে ৬ টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বলে জানা গেছে। প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রীর সংখ্যা স্বভাবিকের চেয়ে অয়েক গুন ছিলো।

যাত্রীরা বলেন, ঈদের ছুটি শেষ অতিরিক্ত যাত্রী হয়েই তাদের কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। তবে যাত্রীর এ চাপ সন্ধ্যার মধ্যে ডাবল হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহনে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আবু আবদুল্লাহ খান।

নদী বন্দরের লঞ্চ র্টামিনালে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছেন জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষ।

বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে যেন কোন ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল করতে দেওয়া হবে না। আমাদের কঠোর নজরদারী রয়েছে। পাশাপাশি পথচারী এবং বাস-লঞ্চের যাত্রীদের নিরাপত্তায় র‌্যাব,পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার সহ সকল ধরনের আইনশৃঙ্খালা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, লঞ্চ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে না পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেটগনরা ও নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বিক কাজ করে যাচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী লঞ্চ গুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনও করা হচ্ছে।

এদিকে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে সড়ক পথে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের কথা চিন্তা করে সড়ক পথ যানজট মুক্ত থাকে সেক্ষেতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সহ নথুল্লাবাদে বাড়তি কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানজট কিছুটা কম বলে অনেকটা ঝামেলা মুক্ত হয়ে গন্তব্যে স্থানে পৌঁছতে পারলেও যাত্রীরা টিকেটের মূল্য বেশী নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।

র‌্যাব-৮এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেছেন, মহাসড়ক যাতে করে যানজট মুক্ত থাকে এজন্য থ্রিহুইলার চলচাল নিয়মের আওতায় এনেছেন। যাত্রীদের কর্মস্থলে ফিরতে সড়ক পথে ভোগান্তি কমাতে তারা র‌্যাবের বাড়তি সদস্য মোতায়েন করেছেন।


বিআরইউ

Link copied!