আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ৪, ২০২৫, ১১:০৩ পিএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ৪, ২০২৫, ১১:০৩ পিএম
ভারতের পার্লামেন্টে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাসের পর দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
শুক্রবার জুমা নামাজের পর কলকাতা, চেন্নাই ও আহমেদাবাদের মতো প্রসিদ্ধ শহরগুলোতে বিক্ষোভের এই ঘটনা ঘটে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় জনসমাবেশের স্থানগুলোতে বিপুল জনতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। এ সময় জাতীয় পতাকা হাতে হাজারও জনতা ‘আমরা ওয়াকফ সংশোধনী বিল প্রত্যাখ্যান করি’, ‘ওয়াকফ বিল বাতিল কর’ লেখা পোস্টার নিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মূল সংগঠক ছিল ওয়াকফ রক্ষা যৌথ ফোরাম নামের একটি সংগঠন।
এদিকে, ভারতের আরেকটি বড় শহর আহমেদাবাদে প্রতিবাদ জানানোর সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় বসে পড়া বেশ কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিকে পুলিশ জোর করে সরিয়ে দিচ্ছে। এসময় অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন নামের একটি সংগঠনের প্রধানসহ ৪০ জনকে আটক করা হয়।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য চেন্নাইতেও। সেখানে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত বিজয় তামিলাগা ভেতরিকাজাগম রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন। বিজয়ের কর্মীরা রাজ্যের কইমবাতোর, তিরুচিরাপল্লির মতো শহরে জড়ো হন এবং ‘ওয়াকফ বিল প্রত্যাখ্যান কর’, ‘মুসলিমদের অধিকার কেড়ে নিও না’ এমন অনেক শ্লোগান দেয়। এ সময় ওয়াকফ বিলকে অগণতিান্ত্রিক হিসেবে অভিহিত করে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় বলেন, এই বিল ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তির ক্ষেত্রে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
দেশটির লখনৌ শহরেও দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। লখনৌ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আশীষ শ্রীবাস্তব এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সবাইকে পুরো বিলটি পড়ার পর তাদের মতামত জানাতে অনুরোধ করেছি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নজরদারি চলছে।
এদিকে, আগামী বছরের নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, তিনি তার রাজ্যে মুসলিমদের জমি কেড়ে নিতে দেবেন না। মমতা ব্যানার্জি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, কেন্দ্রে বিজেপি ছাড়া সরকার গঠন হলে ওয়াকফ বিল বাতিল করা হবে।
এ সপ্তাহে ভারতের পার্লামেন্ট বা লোকসভায় বহুল আলোচিত ও মুসলিমবিরোধী হিসেবে বিরোধী দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি উত্থাপন করেন। উত্থাপনের ২০ ঘণ্টার মধ্যেই তা পাস করা হয়। আইনে পরিণত হওয়ার পথে ওয়াকফ সংশোধনী বিলটিকে বিরোধী দলগুলো ‘মুসলিম বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সরকারি দল বলছে এটি একটি ঐতিহাসিক সংস্কার।
বিলটি আইনে পরিণত হতে এখন তা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। লোকসভায় বিলটির পক্ষে ২৮৮টি ভোট পড়ে আর বিরোধিতা করে ভোট দেন ২৩২ জন লোকসভা সদস্য।
ইএইচ