নাজিরপুরের মিষ্টি নারিকেলের চাহিদা দেশজুড়ে

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম
নাজিরপুরের মিষ্টি নারিকেলের চাহিদা দেশজুড়ে

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মিষ্টি নারিকেলের চাহিদা এখন দেশজুড়ে। খাল নদী বেষ্টিত এ উপজেলার মাটি নারিকেলগাছ রোপণের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় এখানকার নারিকেল খুবই সুমিষ্ট। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে বিক্রি হচ্ছে এখানকার নারিকেল। নারিকেলের ব্যবসার সাথে জড়িয়ে উপজেলার আনুমানিক পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, উপজেলার স্থল ও নদীপথে এখান থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন কোটি টাকার নারিকেল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। তাঁরা জানান, এখানে নারকেলের ব্যবসা সারা বছর চলে। প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার নারকেল বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। এছাড়া স্থানীয় ভোক্তাদের চাহিদানুযায়ী খুচরা বিক্রি হয় প্রায় কোটি টাকার।

জানা গেছে, বসতবাড়ির আশপাশে বিভিন্ন উঁচু জমিতে লাগানো হয় এসব নারিকেলগাছ। এ পেশায় জড়িয়ে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান ঘটছে। তবে এ পেশায় দিন-দিন ব্যবসায়ীদের কপাল খুললেও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে না কৃষকদের। কৃষকদের দাবি ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছ থেকে একটি নারকেল কিনছেন ত্রিশ  থেকে চল্লিশ টাকায়। যে কারণে উপজেলায় এখনো বাণিজ্যিকভাবে নারিকেল গাছ রোপণ করছেন না।

উপজেলার নারকেল ব্যবসায়ী মো. হানিফ বলেন, একটি নারিকেল এখানকার খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আর সেই নারকেলটি ঢাকার খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।

নারিকেলের ব্যবসায়ী আল আমীন সরদার বলেন, আমি ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে নারিকেলের চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিসপ্তাহে বিভিন্ন বাজার থেকে ঘুরে ঘুরে নারিকেল কিনে একসাথে ঢাকায় পাঠাই । লেবার খরচ, গাড়ি ভাড়া বাদে এ ব্যবসায় ভালোই লাভ হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাতুন্নেসা এশা জানান, উপজেলায় নারিকেলের ফলন খুব ভালো। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ প্রদানসহ বিভিন্ন সময়ে বিনামূল্যে উন্নত জাতের চারা বিতরণ করে থাকি। এছাড়া এই উপজেলায় অনেক মানসম্পন্ন নার্সারি থাকায় কৃষকেরা স্বল্পমূল্যে নারিকেলের চারা পেয়ে থাকেন।

বিআরইউ