রাতের অন্ধকারে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫, ০৮:৫৭ পিএম
রাতের অন্ধকারে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী চরের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি জবরদখল করে রাতের আঁধারে ঘর উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মনপুরা থানা ও নৌ কন্টিনজেন্টে বাদী হয়ে অভিযোগ করেন ওই ভুক্তভোগী।

বুধবার জমির মালিক বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলাতলী চরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. ছানাউল্লা ক্রয় সূত্রে মনির বাজার সংলগ্ন দুই একর জমি চার বছর ধরে ভোগ দখলে রয়েছেন। গতবছর বাড়ি করার উদ্দেশ্যে মাটি কেটে পুকুর খনন করেন তিনি। কিন্তু গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতের আঁধারে জবরদখল করে জমিতে ঘর উত্তোলন করেন একই এলাকার বাসিন্দা মো. মিলন মিয়া।

ঘর উত্তোলনে বাধা দিলে মিলনের সাথে থাকা ১০/১৫ জন লোক অস্ত্র প্রদর্শন করে জমির মালিক ছানাউল্লাহকে মারধর ও খুনজখম করার চেষ্টা করে।

এ ব্যাপারে উপজেলার কলাতলী ইউনিয়ন বনবিভাগের বীট অফিসার মো. মিলন মিয়া বলেন, গাছকাটার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ঘটনাস্থলে বনরক্ষি পাঠিয়েছি। তবে গাছ কাটার বিষয়টি জবরদখল করে ঘর উত্তোলন করা মিলন অস্বীকার করেন। এব্যাপারে রাজনৈতিক নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান বীট অফিসার।

কলাতলী চরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিজল ইসলাম, আইজল ব্যাপারী, পপি আক্তার, সোনিয়া, আবু তাহের সেরাং, রায়হান ও রুবেল জানান, জমিটি প্রথমে আবদুর রব হাওলাদারের ছিলো। চিকিৎসার টাকার অভাবে ২০১২ সালে জমিটি তিনি বিক্রি করেন নৌবাহিনীর কমান্ডার মোঃ কামাল উদ্দিনের কাছে। ২০২০ সালে কামাল জমিটি বিক্রি করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছানাউল্লা ও মো. সোহেলের কাছে। সেই থেকে চার বছর যাবত জমিটি ছানাউল্লা ও সোহেল ভোগ দখলে থেকে চাষাবাদ করে আসছে। ২০২৩ সালে বাড়ি করার জন্য মাটি কেটে পুকুর খনন করে ছানাউল্লা। কিন্তু গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আঁধার রাতে মো. মিলন ১০/১৫ জন লোক নিয়ে এসে ঘর উত্তোলন করে। এব্যাপারে ছানাউল্লাহর পরিবার বাধা দিলে দা-বটি ও লাঠিসোটা নিয়ে গায়ের দিকে তেড়ে আসে। অথচ আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানি, জমিটি ছানাউল্লা ও সোহেলের।

এ ব্যাপারে জমির মালিক মো. ছানাউল্লা বলেন, আমি জমিটি কেনার পর থেকে ভোগ দখলে আছি। আমি বাড়ি করে বসবাসের জন্য মাটি কেটে পুকুর খনন করি। কিন্তু রাতের আঁধারে আমার বাধা বাড়িতে মিলন জবরদখল করে ঘর উত্তোলন করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে মিলনসহ ১০/১৫ লোক দা-বটি ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমি নিরুপায় হয়ে মনপুরা থানায় ও নৌ কন্টিনজেন্টে অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে কলাতলী চর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই নজরুল ইসলামের কাছে অভিযোগ ও ঘর উত্তোলনের খবর ৯৯৯ এ ফোন করে জানানোর পরও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ঘর উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. মিলন বলেন, আমি ২০০২ সালে বনবিভাগের কেওড়া গাছ কেটে পরিষ্কার করে জমিটি ভোগ দখলে যাই। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমি বেদখল হয়ে যাই। তবে আমার কাছে জমির কোন কাজপত্রও নেই। তাই এখন সুযোগ পেয়ে আমি এই জমিতে ঘর উত্তোলন করেছি।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান কবির বলেন, কলাতলী চরে জবরদখল করে ঘর উত্তোলনের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইএইচ