মাগুরার গণগ্রন্থাগার আধুনিকায়নে গণপূর্ত বিভাগের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৫, ০৪:৩১ পিএম
মাগুরার গণগ্রন্থাগার আধুনিকায়নে গণপূর্ত বিভাগের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

মাগুরার জরাজীর্ণ গণগ্রন্থাগার সংস্কার ও আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে গণপূর্ত বিভাগ। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে থাকা মাগুরা পাবলিক লাইব্রেরির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাহিদ পারভেজের নেতৃত্বে।

গণপূর্ত বিভাগের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বরাদ্দের আওতায় ৬ লাখ ২২ হাজার ১২৭ টাকা ব্যয়ে "ইস্কিম প্রকল্পের" মাধ্যমে লাইব্রেরির সংস্কার করা হয়। এর ফলে সাধারণ টয়লেট ব্লকের আধুনিকায়ন, পাঠক কক্ষে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিতকরণ এবং পরিত্যক্ত অবস্থার পরিবর্তে একটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নবজীবন

প্রায় ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই গণগ্রন্থাগারটি দীর্ঘদিন সংস্কারের বাইরে ছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। পাঠকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতেন। তবে লাইব্রেরিয়ান হাবিবুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সংস্কারের পর শিক্ষার্থীরা আনন্দিত এবং পাঠকদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

লাইব্রেরিতে আগত শিক্ষার্থীরা জানান, আগের তুলনায় পরিবেশ অনেক সুন্দর হয়েছে। বিশেষ করে টয়লেট ও পাঠক কক্ষের আধুনিকায়ন তাদের পড়াশোনার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

লাইব্রেরিয়ান হাবিবুর রহমান জানান, সংস্কারের ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে পাঠকের আকর্ষণ ধরে রাখতে নতুন বই সংযোজন এবং পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্রন্থাগার পরিচালনা করা জরুরি। বর্তমানে পাঠকের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বইয়ের অভাব ও পুরনো পরিচালনা পদ্ধতি। পাঠাভ্যাস বাড়াতে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ ই-বুক ব্যবস্থা চালু এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ৪২ হাজার বই ডিজিটালাইজেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা ও চাহিদা

লাইব্রেরির সেবা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পাঠক সেবা, বই ধার, গবেষণা সহায়তা, পত্রিকা পাঠ, তথ্য অনুসন্ধান সেবা, বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা, ফটোকপি সেবা, গ্রন্থ প্রদর্শনী ও সেমিনার আয়োজন ইত্যাদি। তবে লাইব্রেরির জায়গার সংকট, অকার্যকর সোলার প্যানেল, বর্ষায় জলাবদ্ধতার সমস্যা ও পর্যাপ্ত আসন সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

নিয়মিত পাঠকরা জানান, এখানে সাইকেল রাখার কোনো সুব্যবস্থা নেই, খাবারের স্থান সংকট রয়েছে এবং বসার স্থান বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরির খোলার সময় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চালু রাখার দাবিও জানিয়েছেন। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি ফিল্টার এবং নামাজের কক্ষ স্থাপনের দাবি উঠেছে।

নিয়মিত পাঠক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা যারা প্রতিদিন এখানে আসি বিভিন্ন ছোট যানবাহন নিয়ে। কিন্তু এখানে সাইকেল রাখার গ্যারেজ এবং খাবারের রুমের সংকট রয়েছে।

মো. জুবায়ের জানান, ৭০ জনের অধিক পাঠক এলে বসার স্পেস বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়, পাঠকদের জন্য স্পেস বার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কীভাবে পড়ালেখা করা সম্ভব।

সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দীন জানান, প্রতিবছর প্রকাশিত নতুন বই অনেক দেরিতে মাগুরা পাবলিক লাইব্রেরিতে আসে। যথাযথ সময়ের মধ্যে আসার জন্য দাবি জানান তিনি।

লাইব্রেরির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ।

ইএইচ