পাকুন্দিয়ায় হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৫, ০১:০২ পিএম
পাকুন্দিয়ায় হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডাক্তার শহীদুল্লাহ-জাহানারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বড় আজলদি গ্রামের নিজ বাড়িতে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি শহীদ মুহাম্মদ আজিজুল হক (আসাদ) শিক্ষার্থীদের হাতে এই বৃত্তির অর্থ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ফাউন্ডেশনের বর্তমান চেয়ারম্যানের স্ত্রী মোছা. আমেনা আনসারি, সদস্য মোছা. জেবা আফিয়া, সদস্য মো. আরিয়ান আজিজ, যুগ্ম সচিব শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক (শাহীন), ফাউন্ডেশনের সদস্য মাহবুবুল হক (আদিল) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এ বছর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১০০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন ছাত্র এবং ৪০ জন ছাত্রী রয়েছেন। স্কুল পর্যায়ের ৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন ছেলে এবং ৫ জন মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষার্থী, নার্সিং কলেজের ৩ জন, ডিপ্লোমা কলেজের ৩ জন এবং মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ৫ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, "আমার কৃষক বাবার পক্ষে পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন। তাই এই ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছি।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল মিয়া বলেন, "দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। এমন কঠিন সময়ে ডাক্তার শহীদুল্লাহ-জাহানারা ফাউন্ডেশন আমার অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছে।"

পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী রানী বলেন, "আমার বাবা নাপিতের কাজ করেন এবং পরিবারের ব্যয় মেটানোই তার জন্য কঠিন। ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।"

ডাক্তার শহীদুল্লাহ-জাহানারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ মোহাম্মদ আজিজুল হক (আসাদ) বলেন, "এ বছর আমরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ১০০ জন শিক্ষার্থীকে তিন লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করেছি। সকল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমি আশা করি তারা সুশিক্ষিত হয়ে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

ইএইচ