যশোরের অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে নারী ও শিশুসহ ২৩৬ জন মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সেই ফুচকা বিক্রেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মনির হোসেন (২৫)। তিনি মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মিন্টুর ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন রাতে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে (ফুড পয়জনিং) পেটে ব্যথা ও বমির লক্ষণ নিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে আসেন। তবে আস্তে আস্তে একই লক্ষণের রোগী বাড়তে থাকে। ঈদের দিন সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৩৬ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজীব জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ২৪ জন ফুচকা খাওয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু, তবে বয়স্ক নারী-পুরুষও রয়েছেন। স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেয়া হচ্ছে এবং অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
মামলার বাদী উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী তানজিম হোসাইন জানান, ঈদের দিন বিকালে ঈদ মেলায় গিয়ে তিনি ফুচকা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ মানুষের পক্ষ থেকে তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন, যাতে সকলেই ন্যায় বিচার পায়।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাশ বলেন, ঈদের দিন অভয়নগর উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামের ভৈরব নদীর পূর্ব পাড়ে চটপটি ও ফুচকার অস্থায়ী দোকান থেকে ফুচকা খেয়ে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং মনির হোসেনকে আটক করে। তিনি নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলার স্বীকার হয়েছেন। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ইএইচ