‘উপহার পেয়ে আনন্দিত অসহায় পরিবারগুলো’

আরিফ হোসেন, বরিশাল প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১২:৪৩ পিএম
‘উপহার পেয়ে আনন্দিত অসহায় পরিবারগুলো’

মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের সম্মানবোধের কথা বিবেচনায় রেখে বরিশালে গোপনে রাতে বস্তিতে গিয়ে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছে চাকরিজীবীদের নিয়ে গঠিত মানবিক সংগঠন ‘ইভেন্ট-৮৪ গ্রুপ’। উপহার পেয়ে পরিবারগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, কারণ এর মাধ্যমে তারা ঈদের দিন সন্তানদের মুখে পোলাও-মাংস তুলে দিতে পেরেছে।

শুক্রবার বিকেলে ঈদ উপহার পাওয়া পরিবারগুলো তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, অনেকদিন পর ঈদের দিন একটু ভালো খাবার রান্না করে খেতে পেরেছেন তারা।

৮৪ গ্রুপের বরিশাল অ্যাডমিন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “শতবর্ষী এক মায়ের খুশি দেখে হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আমার এসএসসি ৮৪ ব্যাচের ৪২ জন বন্ধুকে নিয়ে এই গ্রুপ গঠন করি, যারা দেশের দশটি জেলায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করছেন।” 

২০২৩ সালে প্রবাসী শওকত মীর্জা‍‍`র উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘ইভেন্ট-৮৪ গ্রুপ’। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা এতে যুক্ত রয়েছেন। সদস্যরা প্রতিমাসে তাদের বেতনের একটি অংশ গ্রুপে অনুদান দেন।

ঈদের আগের দিন রাতে ও ঈদের দিন সকালে বরিশাল নগরীর কেডিসি রাজ্জাক কলোনী, ভাটার খাল বস্তি, স্টেডিয়াম কলোনীতে দুই শতাধিক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে দেওয়া হয় ঈদ উপহার। উপহারের ব্যাগে ছিল—সেমাই, চিনি, দুধ, পোলাওয়ের চাল, মুরগি ও তেল।

সংগঠনের সদস্য সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “উপহার দেওয়ার সময় যেন কারও মনে অপ্রস্তুতি বা লজ্জা না আসে, সেজন্য রাতের আধারে গোপনে বিতরণ করা হয়েছে। যাতে পাশের বাড়ির কেউ উপহারের বিষয়টি জেনে তাদের ছোট না করে।”

এক গৃহবধূ জানান, “এর আগে কখনো কেউ এমনভাবে উপহার দেয়নি। ঈদের দিন সন্তানদের মুখে ভালো খাবার দিতে পেরে মনটা জুড়িয়ে গেছে। এই সহানুভূতিশীল মানুষের জন্যই আমরা বেঁচে আছি।”

স্বামীহারা বিউটি নামের এক নারী বলেন, “তিন বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে কঠিন সময় পার করছি। উপহার পেয়ে অনেকদিন পর ঈদের দিন মাংস রান্না করে সন্তানদের খাওয়াতে পেরেছি।”

সাজ্জাদ জানান, “আমরা উপহার বিতরণের সময় প্রাপকদের নাম-তালিকা সংরক্ষণ করি, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। কারও ছবি তোলা বা নাম প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া, আমরা কয়েকজন শিশুর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছি, এবং অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য অনুদান দিয়ে যাচ্ছি।”

সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি মানুষকে ঈদের আনন্দে শামিল করা। যারা ভালো অবস্থানে আছেন, তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। একসাথে এগিয়ে গেলে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব।”

ইএইচ