বাংলাদেশের ধূমপান আসক্ত কিশোর কিশোরীর হার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের প্রায় ১২% কিশোর কিশোরীর নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত। এমনই ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ সম্মেলনে।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে " জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৫-২০২৬ বাজেটে তামাকজাত পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির আবশ্যকতা" শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তামাকজাত পণ্যের কার্যকর করারোপ এবং মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়। বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ, ও অতি উচ্চ এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্য এই দুই স্তরকে একীভূত করে একটি নতুন স্তর তৈরি করে একটি নতুন স্তর তৈরি করে মোট স্তরের সংখ্যা তিনটিতে নামিয়ে আনার দাবি করেন। এবং একই সাথে তিন স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম যথাক্রমে ৯০ টাকা ১৪০ টাকা ও ১৯০ টাকা ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক এবং গ্লোবাল অ্যালাইনস ফর ভ্যাকসিন এন্ড ইনিশিয়েটিভ ( গ্যাভী) ডা. নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০১৮ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার জনিত রোগ প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এই হিসাব মতে প্রতিদিন ৪৪২ টি প্রাণকালে ঝরে যাচ্ছে। এবং তামাকের কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং নিয়মিত ফুসফুস, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসরোগ, এবং ক্যান্সারের মত রোগ বেড়েই যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা( WHO) তথ্য মতে, তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের ফলে সৃষ্টি রোগের কারণে তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। অকাল মৃত্যুর হ্রাসে তামাক পণ্য নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকারকে এই এখনই তামাক পণের উপর কার্যকর করারোপ এবং মূল্যবৃদ্ধি করতে হবে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পলিসি অ্যাডভাইজার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা যেখানে তামাক পণ্যের উপর কার্যকর করারোপ জরুরি সেখানে তামাক কোম্পানি নানা রকম মিথ্যাচার এবং বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, তামাক পণ্যের উপর অতিরিক্ত করারোপ করলে আসন্ন ২০২৫-২৬ বাজেটে সরকার এই খাত থেকে ৬৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন। এবং একইসাথে ১৭ লক্ষ মৃত্যুর রোধ করা ও ২৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে ধূমপান থেকে বিরত রাখা এবং ১৭ লক্ষ তরুণকে ধূমপান শুরু করে থেকে বিরত রাখা সম্ভব। গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো জরিপের তথ্য মতে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স্কদের মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের ধূমপান আসক্ত কিশোর কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের প্রায় ১২% কিশোর কিশোরী নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এন্টি টোব্যাকো ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মুহতাসিম বিল্লাহ মাসুম বলেন, তরুণ প্রজন্মকে তামাক পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি আহ্বান করেন এবং বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেন আসন্ন বাজেটে তামাক পণ্যের কর ও মূল্যবৃদ্ধি করে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।
আরএস