রমজান শুরুর আগ মুহূর্তে দাম বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের
দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের ১০টি সংস্থা মাঠে থাকবে- টিসিবি
বাজার অস্থিতিশীল করতে সরকারের আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত- ক্যাব
সরকারের নানা উদ্যোগেও রমজান ঘিরে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে বাজার তদারকিতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ মনিটরিং টিম। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ও ওই মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার মনিটরিং টিমের সংখ্যাও। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা, সরকারিভাবে চালসহ টিসিবির মাধ্যমে ভোগ্যপণ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সমপ্রতি চালের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকটে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সরকারি এত উদ্যোগ সত্ত্বেও শঙ্কায় রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৭টি ভোগ্যপণ্যকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ধরে সাধারণত বাজার মনিটরিং করা হয়। এবার রমজান উপলক্ষে চাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, খেজুরসহ সবজি ও আমিষজাতীয় পণ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরবরাহ ঠিক রাখা এবং বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যদিও বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে চালের দাম সময়ের সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট বিরাজ করছে। যা সাধারণ ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যদিও সমপ্রতি মিল মালিক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রোজায় ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চালের মজুদ বাড়তে থাকায় বাড়তি দামেই চালের দাম স্থির রয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের তেলের মিলগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি ও শিপিং সংক্রান্ত জটিলতায় কিছুদিন মজুদ সংকটে ছিল। তবে সরকার ও মিলগুলো রোজায় তেলের সরবরাহ বাড়াতে তৎপর রয়েছে। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই দেশব্যাপী সরবরাহ বাড়িয়ে দেবে দেশের পরিশোধন মিলগুলো। তাতে রোজায় দেশে ভোজ্যতেলের সংকট হবে না। তাছাড়া রমজানে মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে। ওই কর্মসূচির আওতায় পাস্তুরিত তরল দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০, ড্রেসিং করা ব্রয়লার প্রতি কেজি ২৫০ ও ডিম প্রতি ডজন ১১৪ টাকায় বিক্রি করা হবে। শুধু ঢাকা শহরের ২৫ স্থানে চলবে প্রথম রমজান থেকে ২৮ রমজান পর্যন্ত এ কর্মসূচি। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ট্রাকে করে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল (সয়াবিন বা কুঁড়ার তেল), দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ছোলা ও ৫০০ গ্রাম খেজুর কিনতে পারে। এর মধ্যে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০, চিনি ৭০, ছোলা ৬০ ও ১৫৫ টাকা কেজি দরে আধা কেজি করে খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সারা দেশে টিসিবি নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি মূল্যস্ফীতির মধ্যে জনমানুষের কাছে স্বস্তি নিয়ে আসতে ভূমিকা রাখবে।
সূত্র আরও জানায়, খাদ্য উপদেষ্টা আগামী দুই মাস ৩০ টাকা কেজি দরে ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। রমজান সামনে রেখে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মার্চ ও এপ্রিলে দেড় লাখ টন করে মোট তিন লাখ টন চাল দেয়া হবে। প্রতি পরিবার ১৫ কেজি করে চাল পাবে। টিসিবির মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টন করে দুই মাসে এক লাখ টন চাল ওএমএসের মাধ্যমে যাবে। ঈদ উপলক্ষে এক কোটি পরিবার বিনামূল্যে১০ কেজি করে চাল পাবে। ওসব কর্মসূচি রোজা ছাড়াও দেশে চালের বর্ধিত মূল্যকে সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। তবে এবার রমজান সামনে রেখে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বেশির ভাগ উদ্যোগই শহরকেন্দ্রিক। মনিটরিং কার্যক্রম শহরকেন্দ্রিক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রকৃত সেবা পৌঁছতে বিলম্ব হয়।
টিসিবির ট্রাক সেল, ওএমএসের কার্যক্রম দেশব্যাপী হলেও শুধু ঢাকা শহরকে সামনে রেখে নেয়া হয়েছে ন্যায্যমূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম। সেক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রমগুলোর পরিধি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো গেলে রোজায় ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। যদিও সরকারের উদ্যোগ সত্ত্বেও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমে ধীরগতি, উৎসমূলে তদারক না করে সাধারণ ভোক্তাদের সংগ্রহ পয়েন্টে তদারক করায় বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক সময় ওসব উদ্যোগ শতভাগ সফলতা পায় না। ভোগ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম নির্ধারণে বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের জরিমানার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীলতার পরিবর্তে আরো বেশি সংকট বাড়ে।
এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম জানান, সরকার ও মিল মালিকরা বৈঠক করে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো মিলগেট থেকে আগের বিক্রি করা (এসওর মাধ্যমে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেল) তেল সরাসরি সরবরাহ দিচ্ছে না। মিলগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও সরকার এতে রাজি হয়নি। ফলে মিল মালিকরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এসও মূলে বিক্রি হওয়া সয়াবিন ও পাম অয়েল সরবরাহ না দিয়ে নগদে বাড়তি মূল্যে নতুন করে ভোজ্যতেল বিক্রি করছে। তাতে আগের কেনা ভোজ্যতেল না পেয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ভোজ্যতেল কিনছে। তাতে সরকারিভাবে দাম বাড়ানো না হলেও বেশি দামে খোলা তেল কিনতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা বাধ্য হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজার তদারকির বিষয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের ১০টি সংস্থা মাঠে থাকবে। সড়ক ও বাজারে চাঁদাবাজি রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও যুক্ত থাকবে। র?্যাব-পুলিশেরও নিয়মিত টহল থাকবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও বিএসটিআইয়ের একাধিক টিম বাজার মনিটরিংয়ে কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪ জন উপসচিবের নেতৃত্বে ১৪টি মনিটরিং টিম। ওসব টিম দৈনন্দিন বাজার মনিটরিং করবে। পর্যবেক্ষণ করবে মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি। তাছাড়া প্রতি জেলায় থাকবে জেলা প্রশাসক ও উপজেলায় থাকবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাজার তদারকি টিম। ওসব টিমকে সার্বিক সহায়তা দেবে জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে।
রমজান সামনে রেখে বাজারে মাছ-মাংসের দাম বাড়ছে। লেবু, শসা ও বেগুনের দামও বাড়তি। তবে রোজার পণ্য হিসেবে পরিচিত খেজুর, ছোলা, চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের দাম এখনো স্থিতিশীল। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর-১ কাঁচাবাজার, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে রমজানের পণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এসব বাজারে ক্রেতা সাধারণের ভিড় ছিল উপচে পড়া।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আজ শনিবার থেকে রমজান শুরু হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তারা প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি বাজার করছেন। এ অবস্থায় অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ১৮০-২০০ টাকা ছিল। একইভাবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ২৮০-৩১০ টাকা হয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরুতে অনেকে বেশি পরিমাণে মুরগি কিনে রাখেন। যে কারণে এ সময়টাতে চাহিদার সঙ্গে দাম বাড়ার প্রবণতাও দেখা দেয়। বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও সহনশীল রয়েছে। প্রতি ডজন কেনা যাচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকায়। এছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের প্রতিদিনের আইটেম ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০৫-১১০ টাকা। একই সঙ্গে খেসারির ডাল ১১০-১২০ টাকা ও মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মিরপুর কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি মামুনুল ইসলাম বলেন, ডালজাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। আগের বছর রমজানেও এমন দাম ছিল। মাঝে মসুরের দাম কিছুটা বেড়েছিল, এখন সেটা কমেছে। মাস দুই আগে চিনির দাম উঠেছিল ১২৫-১৩০ টাকায়। এখন তা কিছুটা কমে ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এ বিক্রেতা। তবে অস্থিরতা রয়ে গেছে সয়াবিন তেলের বাজারে। ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। বিভিন্ন দোকান ঘুরে সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। কয়েক দোকান ঘুরে একটিতে সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও পাঁচ লিটারের গ্যালনের দাম ৮৫০ টাকা চাচ্ছেন দোকানি। অন্যদিকে খোলা সয়াবিনের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।
তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলশাদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, রমজানের আগে সয়াবিন তেলের চাহিদা যখন বেড়ে যায় তখন ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবসায়ীরা। একটি শক্ত সিন্ডিকেট এই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ ক্রেতারা। রমজান ঘিরে বাজারে মুড়ি ও খেজুরের চাহিদাও বাড়ে। বাজারে এখন প্রতি কেজি মুড়ি ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরও এমন দাম ছিল বলে জানান বিক্রেতারা। চিড়া প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, নরম গুড় ১৮০ টাকা ও শক্ত গুড় ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা ফলের মধ্যে খেজুরের চাহিদা রমজান মাসে অনেকটাই বেড়ে যায়। সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা এবং ভাল মানের খেজুর ৭০০-১৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রমজানে শরবত তৈরির জন্য লেবুর চাহিদাও বাড়ে। ফলে বাজারে এখন কিছুটা বাড়তি দামে লেবু বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি শরবতি লেবু ৭০ টাকা এবং অন্যান্য লেবু ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শশা প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা ও গাজর ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে।
এ বিষয় ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন জানান, সরকার প্রতি বছরই রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়। এ বছর সরকারি চেষ্টা সত্ত্বেও চাল ও ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারেনি। বাধ্য হয়ে সরকারি উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের আইনের মধ্যে রেখে সরবরাহ ও দাম ঠিক করতে না পারলে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে থাকবে। এজন্য সরকারের আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত।
সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি টিম নিয়মিত ঢাকা মহানগর ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় স্পেশাল টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাজার তদারক করছে। রমজানকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরো নিবিড়ভাবে তদারক করছে। ঢাকা মহানগরে নিয়মিত দুটি টিম বাজার মনিটরিং করলেও রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন তিনটি টিম বাজার তদারক করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ৬টি টিম মাঠে রয়েছে। রমজান উপলক্ষে কাজ করছে ১০টি টিম। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় বাজার কমিটির মাধ্যমে মাইকিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।