Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫,

ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে আরও দামি হচ্ছে আইফোন

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম


ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে আরও দামি হচ্ছে আইফোন

অন্যান্য মোবাইলের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় আইফোন এমনিতেই অভিজাতদের পণ্য হিসেবে পরিচিত। তাই ইচ্ছা থাকলেও দাম হাতের নাগালে না হওয়ায় আইফোন কিনতে পারেন না অনেকে।  সেই আইফোন শিগগিরই হতে পারে অনেক বেশি দামি।

শ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণে আইফোনের দাম ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) অ্যাপলের শেয়ার মূল্য ৯.৩ শতাংশ হ্রাস পায়, যা ২০২০ সালের মার্চের পর সবচেয়ে বড় পতন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স

অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক সংস্থা রোসেনব্লাট সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, বিশ্বের জনপ্রিয় মোবাইল নির্মাতা অ্যাপল যদি শুল্ক আরোপের কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয় তাহলে একটি লেটেস্ট মডেলের আইফোনের দাম ২ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৩ লাখ টাকার সমান।

ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনা পণ্যের উপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে অধিকাংশ প্রযুক্তিপণ্য বিশেষ করে আইফোনের মতো ভোক্তাপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও অধিকাংশ আইফোন চীনে তৈরি হয়, যা বর্তমানে ৫৪ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অ্যাপলের সামনে রয়েছে দুটি কঠিন পথ-শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ নিজেরা বহন করা অথবা তা গ্রাহকদের উপর চাপানো। রোজেনব্লাট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল যদি এই খরচ সরাসরি গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের দাম বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৩ লাখ টাকার সমান। এই মডেলটির বর্তমান দাম ১ হাহার ৫৯৯ ডলার বা ২ লাখ টাকার উপরে।

একইভাবে, আইফোন ১৬-এর বেস মডেল, যার বর্তমান মূল্য ৭৯৯ ডলার, সেটির দাম ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধিতে দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ১৪২ ডলারে। আর ফেব্রুয়ারিতে লঞ্চ হওয়া সস্তা মডেল আইফোন ১৬e-এর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৮৫৬ ডলার হতে পারে।

যদিও অ্যাপল তার উৎপাদনের কিছু অংশ ভিয়েতনাম ও ভারতে স্থানান্তর করেছে, সেসব দেশও শুল্কের আওতায় পড়েছে। চীনের উপর ৫৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের উপর ৪৬ শতাংশ এবং ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাপলের সাম্প্রতিক ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ফিচার-যেমন নোটিফিকেশন সারাংশ, ইমেইল রিরাইট এবং চ্যাটজিপিটির ইন্টিগ্রেশন-গ্রাহকদের আপগ্রেডে প্রলুব্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিক্রিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো জিনো মন্তব্য করেন, আমরা মনে করি অ্যাপল সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করতে পারবে। এর বেশি হলে বিক্রিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।

রোজেনব্লাট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক বার্টন ক্রকেট বলেন, আমাদের হিসেব অনুযায়ী, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে অ্যাপলের ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবতেও পারিনি যে ট্রাম্প এমন একটি আমেরিকান আইকনকে ধ্বংস করার মতো সিদ্ধান্ত নেবেন... কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইফোনের এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ তারা অপেক্ষাকৃত কম শুল্কের আওতায় রয়েছে।

অ্যাপল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্ববাজারের গতিপ্রবাহ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির ফলে প্রযুক্তি জগতের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানির সামনে এক অনিশ্চিত ও চ্যালেঞ্জিং ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

আরএস

Link copied!